বাচ্চার দাঁত ক্ষয় (ক্যাভিটি) আমাদের দেশে খুব সাধারণ একটি সমস্যা। নিয়মিত ব্রাশ না করার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারের অভাবও এ সমস্যার বড় কারণ। শিশুর প্রথম দাঁত ওঠার পর থেকেই সঠিক যত্ন না নিলে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে, যা পরবর্তীতে খাওয়ার সমস্যা, ব্যথা এবং ডেন্টিস্টের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি (AAPD) এবং আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের (ADA) পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুর দাঁতকে সুস্থ ও ক্যাভিটি-মুক্ত রাখতে বাবা-মায়েদের জন্য রয়েছে কিছু সহজ টিপস। আসুন দেখে নেওয়া যাক— ১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশের অভ্যাস: শিশুর প্রথম দাঁত ওঠার সময় থেকেই ব্রাশ করানো শুরু করুন। নরম বেবি টুথব্রাশ ব্যবহার করুন। ফ্লোরাইডযুক্ত নিরাপদ বেবি টুথপেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিদিন সকালে খাবারের পর ও রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করান। ২. পুষ্টিকর খাবার দিন: দাঁত মজবুত রাখতে শিশুদের ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ফ্লোরাইড এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। দুধ, দই, পনির দাঁতকে শক্ত রাখে। ভিটামিন সি জাতীয় ফল (কমলা, মাল্টা, পেয়ারা) মাড়িকে সুস্থ রাখে। ৩. বেশি সময় ধরে চিবোতে হয় এমন খাবার এড়িয়ে চলুন: মুড়ি, চানাচুর, বাদাম বা চুইংগামের মতো খাবার মুখে অনেকক্ষণ লেগে থাকে। এতে দাঁতের অ্যানামেল ক্ষয়ে যায়। ৪. চিনিযুক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ করুন চিনি দাঁতের সবচেয়ে বড় শত্রু। এক বছরের আগে কোনো চিনি নয়। দুই বছরের আগে কোনো অ্যাডেড সুগার নয়। ৪–৮ বছর বয়সী শিশুদের দৈনিক সর্বোচ্চ ১৬ গ্রাম চিনি দেওয়া উচিত। মিষ্টি খাবার দিলে দিনে সর্বোচ্চ ২ বার, সেটিও মূল খাবারের সময় দিন। ৫. জুস ও চিনিযুক্ত পানীয় কমান: শিশুকে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বাজারের জুস শিশুকে একেবারেই দিবেন না। ঘরে তৈরি জুস দিলে পাতলা করে এবং খাবারের সাথে দিন। ফলের জুসের পরিবর্তে তাজা ফল খাওয়ানো সবচেয়ে ভালো। ৬. শিশুর জন্য আলাদা চামচ ও টুথব্রাশ ব্যবহার করুন: স্ট্রেপ্টোকক্কাস মিউট্যান্স হলো এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা দাঁতের ক্ষয় (দাঁতের ক্যাভিটি) সৃষ্টি করে। এটি মানুষের মুখে বসবাস করে, খাবার থেকে সুক্রোজ বা শর্করাকে ভেঙে অ্যাসিডে পরিণত করে, যা দাঁতের এনামেলকে নষ্ট করে দেয়। এই ব্যাকটেরিয়া বাবা-মা বা অন্য শিশুর কাছ থেকেও ছড়াতে পারে। তাই— শিশুর জন্য আলাদা টুথব্রাশ, চামচ, বাটি ব্যবহার করুন। শিশুকে আপনার মুখে হাত দিতে দেবেন না। ৭. বোতলের বদলে কাপে খাওয়ার অভ্যাস করান: দুধ বা জুস খাওয়ার জন্য বোতল ব্যবহার করলে দাঁত ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে। শিশুকে ছোট গ্লাস বা টডলার কাপ থেকে খেতে শেখান। এতে দাঁত ও মুখের পেশি দুটোই সুরক্ষিত থাকে। ৮. ঘুমানোর আগে অবশ্যই ব্রাশ করান: শিশু রাতে বুকের দুধ বা ফিডার খেলে, ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করুন অথবা ভেজা নরম কাপড় দিয়ে দাঁত মুছে দিন। ৯. ফ্লোরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করুন: তিন বছরের নিচের শিশুর জন্য চালের দানার সমান টুথপেস্ট যথেষ্ট। বড়দের জন্য মটর দানার সমান পরিমাণ। ঘরের পানিতে ফ্লোরাইড আছে কিনা জেনে নিন। না থাকলে ডাক্তারের পরামর্শে ফ্লোরাইড সাপ্লিমেন্ট দিন। দাঁত শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং সঠিকভাবে খাওয়া ও হজমের জন্যও অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত ব্রাশ, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু ছোট ছোট সতর্কতা শিশুর দাঁতকে ক্যাভিটি থেকে রক্ষা করবে।