১। টাইফয়েড জ্বর কী? কীভাবে এই রোগ ছড়ায়?
উত্তর : বাংলাদেশে সংক্রমণজনিত রোগের মধ্যে টাইফয়েড অন্যতম একটি সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ রোগ। টাইফয়েড জ্বর “স্যালমোনেলা টাইফি” নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রামিত একটি রোগ। সাধারণত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে এই জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং রোগ সৃষ্টি করে।
২। টাইফয়েড রোগ প্রতিরোধে টিসিভি (Typhoid Conjugate Vaccine) টিকা কতটা নিরাপদ ও কার্যকর?
উত্তর : হ্যাঁ, টিসিভি টিকা অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর একটি প্রতিরোধমূলক টিকা। সারা বিশ্বব্যাপী এই টিকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই শিশুরা গ্রহণ করছে। পাকিস্তান, নেপাল সহ একাধিক দেশে এই টিকা সফলভাবে প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ব্যবহৃত টিসিভি টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক অনুমোদিত ও যাচাইকৃত। টিসিভি টিকা দেওয়ার পর সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া , যেমন: টিকা দেওয়ার স্থানে চামড়া লাল হওয়া, ফুলে যাওয়া, সামান্য ব্যথা, অল্প জ্বর, মাথা ব্যাথা, ক্লান্তি ভাব, এবং মাংসপেশিতে ব্যথা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে; যেগুলি স্বাভাবিকভাবে কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়।
৩। এই ক্যাম্পেইনে টাইফয়েড টিকা কে কে নিতে পারবেন?
উত্তর : টিকাদান ক্যাম্পেইন চলাকালে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি/সমমান পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে এবং যেসব শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যায় না, তাদের মধ্যে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের নিকটস্থ স্থায়ী ও অস্থায়ী ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা প্রদান করা হবে।
৪। টাইফয়েডের টিকা শরীরের কোন স্থানে দেওয়া হয়?
উত্তর : ২ বছর এবং তার কম বয়সি শিশুদের ০.৫ এম.এল. পরিমাণ টিকা উরুর বাইরের মাঝামাঝি অংশের মাংসপেশিতে এবং ২ বছরের বেশি বয়সের শিশুদের বাহুর উপরিভাগে বাইরের অংশে সমপরিমাণ ডোজ ডেল্টয়েড মাংসপেশিতে দেওয়া হয়।
৫। কেন শুধু ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের টাইফয়েড টিকা দেওয়া হচ্ছে?
উত্তর : বাংলাদেশে এই বয়সি শিশুরাই টাইফয়েড রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। টিসিভি টিকার ১ ডোজ এই বয়সে প্রদান করলে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। সেজন্য এই টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সের শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে শুধুমাত্র ৯ মাস বয়সি শিশুরাই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে এই টিকা পাবে।
৬। প্রাপ্তবয়স্ক বা ১৫ বছরের বেশি বয়সি কেউ কি এই টিকা গ্রহণ করতে পারবে?
উত্তর : সরকারি উদ্যোগে এই ক্যাম্পেইনে শুধুমাত্র ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদেরই টিসিভি টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে ১৫ বছরের বেশি বয়সি কেউ চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিজ উদ্যোগে এই টিকা গ্রহণ করতে পারবে।
৭। টিসিভি টিকা নিলে কি আর টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না?
উত্তর : সংক্রমণের পূর্বে এই টিকা গ্রহণ করলে পুনরায় টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায় এবং পরবর্তীতে টাইফয়েড জ্বর হলেও তাতে জটিলতা সৃষ্টি হয় না।
৮। একজন মা জানতে চাইলেন, আমার মেয়েকে এই টিকা দিলে বিয়ের পর সন্তান ধারণে কোন সমস্যা হবে কি?
উত্তর : টিসিভি টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং কার্যকর। এই টিকা নারীর গর্ভকালীন জটিলতা, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস কিংবা সন্তান ধারণে কোন প্রকার নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না বরং এই টিকা টাইফয়েড জ্বর থেকে সুরক্ষা দেয়।
৯। গর্ভবতী কিশোরী বা দুগ্ধদানকারী মা কি এই টাইফয়েড টিকা গ্রহণ করতে পারবে?
উত্তর : না। গর্ভাবস্থায় বা দুগ্ধদানকারী মা-কে এই টিকা প্রদান করা যাবে না।
১০। বর্তমানে যদি কারও টাইফয়েড জ্বর থাকে, সে কি টিসিভি টিকা নিতে পারবে?
উত্তর : না, টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত অবস্থার এই টিকা নেওয়া যাবে না। তবে জ্বর থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার পর এই টিকা নেওয়া যেতে পারে।
১১। পূর্বে টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে কি টিকা নেওয়া প্রয়োজন?
উত্তর : হ্যাঁ, পূর্বে টাইফয়েডে আক্রান্ত হলেও এই টিকা নেওয়া যাবে এবং নেওয়া উচিত।
১২। এই টিকা নেওয়ার সঙ্গে কি অন্য টিকা নেওয়ার কোনো বাধা আছে?
উত্তর : না, টাইফয়েড টিকা অন্য যেকোনো টিকার সঙ্গে একই সময়ে, আগে বা পরে গ্রহণ করা যেতে পারে।
১৩। আগে যদি টাইফয়েড টিকা নেওয়া থাকে, তাহলে কি ক্যাম্পেইনে আবার নিতে হবে?
উত্তর : হ্যাঁ, ৯ থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুর পূর্বে টাইফয়েড টিকা গ্রহণ করে থাকলেও ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে তাদের ১ ডোজ টিসিভি টিকা অবশ্যই নিতে হবে।
১৪। টাইফয়েড ক্যাম্পেইন চলাকালীন নির্ধারিত এলাকার বাইরে কোনো শিশু যদি এসে টিকা নিতে চায়, তবে কি দেওয়া যাবে?
উত্তর : হ্যাঁ, টাইফয়েড ক্যাম্পেইনের সময় অন্য এলাকার শিশুদেরও টিকা দেওয়া যাবে।
১৫। নির্ধারিত দিনে স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে কি পরে টিকা নেওয়া সম্ভব?
উত্তর : হ্যাঁ, নির্ধারিত দিনে টিকা না নিতে পারলে ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে কাছের স্থায়ী বা নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেওয়া যাবে।
১৬। যদি কোনো শিশু নির্ধারিত টিকাদান সেশনে টিকা নিতে না পারে, তাহলে কি সে পরে টাইফয়েড টিকা নিতে পারবে?
উত্তর : হ্যাঁ, অবশ্যই পারবে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ের মধ্যে দেশের যে কোনো যে কোনো ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে।
১৭। টাইফয়েড টিকা কি সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হবে?
উত্তর : হ্যাঁ। ১ ভোজ টাইফয়েড টিকা বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে নির্ধারিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এবং ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রসমূহে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।
১৮। টিকা দেওয়ার সময় কখনো কখনো দেখা যায়—কিছু কিশোরী একসাথে অসুস্থ বোধ করছে বা অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে; কেউ কেউ আবার হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। কেন এমন হয়? এটা কি বিপজ্জনক?
উত্তর : না, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি Mass Psychogenic Illness নামে পরিচিত, যা মূলভ টিকা প্রদানের পূর্বে বা পরে মানসিক ভীতিজনিত কারণে একটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, এটি টিকার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে নয়। একজন কিশোরী অসুস্থ বোধ করলে অন্য অনেক কিশোরীও তাকে দেখে ভয় পেয়ে অসুস্থ বোধ করে, এটি সম্পূর্ণ মানসিক প্রতিক্রিয়া, টিকার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।


