গর্ভাবস্থার ৮ম সপ্তাহ​

গর্ভাবস্থার ৮ম সপ্তাহে শিশুর বৃদ্ধি - Parenting Point

গর্ভাবস্থার ৮ম সপ্তাহ​

গর্ভাবস্থার ৮ম সপ্তাহে আপনাকে স্বাগতম। এই সপ্তাহে আপনার গর্ভধারণের দুই মাস পূর্ণ হবে। বাইরে থেকে হয়তো এখনো গর্ভাবস্থা তেমন বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু গর্ভের ছোট্ট শিশুটি দ্রুত বেড়ে উঠছে। তার মস্তিষ্ক, চোখ, কান, ঠোঁট, হাত-পায়ের আঙুল এবং শরীরের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো ধীরে ধীরে গঠিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, আপনার শরীরেও নানা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন-বমিভাব, ক্লান্তি, ঘন ঘন প্রস্রাব, খাবারের রুচিতে পরিবর্তন কিংবা গন্ধে অস্বস্তি।

এই সময় সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, নিয়মিত আয়রন-ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সেবন এবং গর্ভকালীন চেকআপ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই লেখায় যা জানবেন

  • ৮ সপ্তাহে শিশুর বৃদ্ধি
  • মায়ের শরীরে কী পরিবর্তন হয়
  • এই সপ্তাহে কী কী করণীয়
  • সাধারণ লক্ষণ
  • কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
  • বাবার করণীয়
  • প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ
৮ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা এক নজরে
গর্ভকাল
৮ সপ্তাহ
মাস
২ মাস
ত্রৈমাসিক
প্রথম ত্রৈমাসিক
বাকি সময়
প্রায় ৩২ সপ্তাহ
শিশুর দৈর্ঘ্য
প্রায় ১৬ মিলিমিটার
শিশুর আকার
একটি মিষ্টি কুমড়ার বিচির সমান

এই সপ্তাহে আপনার করণীয়

খাবারের তালিকায় নিয়মিত মাছ রাখুন

এই সপ্তাহে আপনার শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ চলছে। তাই খাবারের তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ রাখা খুবই জরুরি। মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়োডিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শিশুর মস্তিষ্ক, চোখ এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সপ্তাহে অন্তত ২৮০ গ্রাম মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন। এর মধ্যে প্রায় ১৪০ গ্রাম তৈলাক্ত মাছ যেমন—ইলিশ, পুঁটি বা চাপিলা রাখতে পারেন। সম্ভব হলে মাছ ভেজে খাওয়ার পরিবর্তে কম তেলে রান্না করা, ভাপে রান্না করা অথবা সবজির সঙ্গে রান্না করে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

বমিভাব কমাতে আদা খেতে পারেন

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে অনেকেরই বমিভাব বা বমি হতে পারে। এটি সাধারণত হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। বমিভাব কমাতে যা করতে পারেন –

  • কুসুম গরম পানিতে সামান্য আদা কুচি দিয়ে পান করতে পারেন।
  • অল্প পরিমাণ কাঁচা আদা চিবিয়েও অনেকের উপকার হয়।
  • একসঙ্গে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার খান।
  • সারাদিনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

তবে খুব বেশি বমি হলে বা কোনো খাবারই পেটে না থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আয়রন-ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়া চালিয়ে যান

আপনার গর্ভের শিশুটি এখন খুব দ্রুত বেড়ে উঠছে। তার মস্তিষ্ক, চোখ, নাক, কানসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গঠনের কাজ চলছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন আয়রন-ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খেতে ভুলবেন না। আয়রন ও ফলিক এসিড রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশে ভূমিকা রাখে এবং জন্মগত কিছু জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

গর্ভকালীন চেকআপ করিয়ে নিন

এখনো যদি গর্ভকালীন প্রথম চেকআপ না করিয়ে থাকেন, তাহলে এ সপ্তাহেই চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করুন। চিকিৎসক আপনার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করবেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পর্কে জানাবেন এবং কীভাবে পুরো গর্ভাবস্থায় নিজের যত্ন নেবেন সে বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। চেকআপ যত দ্রুত শুরু করবেন, মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা তত সহজ হবে।

গর্ভাবস্থার ৮ম সপ্তাহে শিশুর বৃদ্ধি

গর্ভাবস্থার ৮ম সপ্তাহে শিশুর বৃদ্ধি - Parenting Point

এ সপ্তাহে আপনার গর্ভের ছোট্ট শিশুটি দ্রুত বেড়ে উঠছে। তার দৈর্ঘ্য এখন প্রায় ১৬ মিলিমিটার, অর্থাৎ প্রায় একটি মিষ্টি কুমড়ার বিচির সমান। যদিও আকারে এখনো খুব ছোট, তবে তার শরীরে প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটছে। মস্তিষ্ক, মুখমণ্ডল, হাত-পা এবং শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলো আগের তুলনায় আরও দ্রুত বিকশিত হচ্ছে।

শিশুর কান, চোখ ও মুখমণ্ডল আরও স্পষ্ট হচ্ছে

এই সপ্তাহে শিশুর কানের বাইরের অংশ তৈরি হতে শুরু করে। একই সঙ্গে চোখ, নাক ও ঠোঁটের আকৃতিও আগের তুলনায় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মুখমণ্ডলের গঠন এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, তবে প্রতিদিনই তা আরও পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

হাত-পায়ের আঙুল তৈরি হতে শুরু করেছে

এ সপ্তাহে শিশুর হাত ও পায়ের আঙুলের খাঁজ তৈরি হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই খাঁজগুলো থেকেই পৃথক আঙুলের গঠন সম্পূর্ণ হবে। এ সময় শিশুর হাত পায়ের তুলনায় কিছুটা বড় দেখাতে পারে। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, কারণ শরীরের ওপরের অংশ নিচের অংশের তুলনায় আগে বিকশিত হয়।

শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলো দ্রুত গড়ে উঠছে

শুধু শরীরের বাইরের অংশই নয়, ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোও দ্রুত তৈরি হচ্ছে। এই সময় গর্ভের শিশুর ফুসফুসের গঠন আরও বৃদ্ধি পায়, লিভারের বৃদ্ধি চলতে থাকে, পরিপাকতন্ত্র ধীরে ধীরে বিকশিত হয় এবং মূত্রথলির গঠন আরও স্পষ্ট হয়। একই সঙ্গে শিশুর মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশও দ্রুত বিকশিত হতে থাকে।

মস্তিষ্কের বিকাশ চলছে দ্রুত

গর্ভাবস্থার ৮ম সপ্তাহ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি, বিশেষ করে ওমেগা-৩, আয়োডিন, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড শিশুর স্বাভাবিক মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত আয়রন-ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট গ্রহণ করা জরুরি।

মায়ের শরীরে যে সব পরিবর্তন ঘটে

এই সপ্তাহে আপনার গর্ভধারণের প্রায় দুই মাস পূর্ণ হবে।

বাইরে থেকে হয়তো এখনো গর্ভাবস্থা তেমন বোঝা যাচ্ছে না, তবে শরীরের ভেতরে অনেক পরিবর্তন ঘটছে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে আপনি আগের তুলনায় বেশি ক্লান্ত, বমিভাব বা আবেগপ্রবণ অনুভব করতে পারেন।

নিয়মিত মাছ খাওয়ার অভ্যাস করুন

এই সময় মাছ আপনার খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। মাছে থাকা পুষ্টি উপাদান শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে, চোখের রেটিনার স্বাভাবিক গঠনে ভূমিকা রাখে এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে। চেষ্টা করুন সপ্তাহে অন্তত ২৮০ গ্রাম মাছ খেতে। এর মধ্যে কিছু অংশ তৈলাক্ত মাছ যেমন ইলিশ, পুঁটি বা চাপিলা রাখতে পারেন। তবে কাঁচা বা আধাসেদ্ধ মাছ খাবেন না। কম তেলে রান্না করা বা ভাপে রান্না করা মাছ বেছে নেওয়া ভালো।

বমিভাব ও বমি হওয়া স্বাভাবিক

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে অনেকেরই বমিভাব বা বমি হতে পারে। এটি সাধারণত হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ পর ধীরে ধীরে কমে আসে।

বমিভাব কমানোর জন্য যা করতে পারেন-

  • সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে থাকবেন না।
  • অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার খান।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • আদা বা আদা দেওয়া কুসুম গরম পানি খেতে পারেন।

যদি বারবার বমি হয়ে কোনো খাবার বা পানি পেটে না থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক

এই সময় অনেক মায়েরই সারাদিন ক্লান্ত লাগে। আপনার শরীর এখন গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। তাই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ক্লান্ত অনুভব করা অস্বাভাবিক নয়। নিজেকে অতিরিক্ত কাজের চাপ দেবেন না। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং দিনের বেলায় প্রয়োজন হলে কিছু সময় বিশ্রাম নিন।

ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে

শিশুর বৃদ্ধি অনুযায়ী জরায়ুর আকারও ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। বড় হতে থাকা জরায়ু মূত্রথলির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে আগের তুলনায় ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসা স্বাভাবিক। তবে পানি কম পান করবেন না। বরং দিনের বেলায় পর্যাপ্ত পানি পান করুন। যদি প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, দুর্গন্ধ, ঘোলাটে প্রস্রাব বা জ্বর থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এগুলো মূত্রনালির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।

গর্ভকালীন চেকআপের গুরুত্ব

এখনো যদি গর্ভকালীন প্রথম চেকআপ না করিয়ে থাকেন, তাহলে আর দেরি করবেন না। নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা যায়,  প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং সঠিক পুষ্টি ও জীবনযাপন সম্পর্কে পরামর্শ পাওয়া যায়। আপনার সুবিধামতো সরকারি হাসপাতাল, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক অথবা অভিজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গর্ভকালীন সেবা নিতে পারেন।

গর্ভাবস্থার ৮ম সপ্তাহে অন্যান্য সাধারণ লক্ষণ

প্রত্যেক গর্ভাবস্থা আলাদা। তাই সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ দেখা নাও যেতে পারে। তবে ৮ম সপ্তাহে নিচের লক্ষণগুলো অনেকের মধ্যেই দেখা যায়—

  • বমিভাব বা বমি হওয়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পেটে অস্বস্তি বা পেট ফাঁপা অনুভব হওয়া
  • খাবারের রুচিতে পরিবর্তন
  • নির্দিষ্ট খাবারের গন্ধে অস্বস্তি লাগা
  • মুখে ধাতব বা অদ্ভুত স্বাদ অনুভব হওয়া
  • তীব্র ঘ্রাণশক্তি
  • মাথাব্যথা
  • ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসা
  • সাদা স্রাবের পরিমাণ কিছুটা বেড়ে যাওয়া
  • স্তনে ব্যথা বা স্পর্শে অস্বস্তি
  • সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া
  • মুড সুইং বা ঘন ঘন মনমেজাজের পরিবর্তন
  • মুখে বাদামি বা মেছতার মতো দাগ দেখা দেওয়া
  • চুল আগের তুলনায় ঘন বা ঝলমলে লাগা

এসব লক্ষণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তবে লক্ষণগুলো যদি খুব তীব্র হয়ে যায় বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

গর্ভাবস্থায় কিছু লক্ষণকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। নিচের যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যান—

  • যোনিপথ দিয়ে রক্তপাত হওয়া
  • তীব্র তলপেট ব্যথা
  • বারবার বমি হয়ে কোনো খাবার বা পানি ধরে রাখতে না পারা
  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
  • দুর্গন্ধযুক্ত বা ঘোলাটে প্রস্রাব
  • জ্বর বা শরীর কাঁপানো
  • অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা

সময়মতো চিকিৎসা নিলে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

বাবার করণীয়

গর্ভাবস্থার এই সময়টাতে বাবার সহযোগিতা মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নিয়মিত মাছ কিনে আনুন

শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশের জন্য মাছ খুবই উপকারী। আপনি যদি বাজার করেন, তাহলে সপ্তাহের খাবারের তালিকায় পর্যাপ্ত মাছ রাখার চেষ্টা করুন। সাধারণ মাছের পাশাপাশি ইলিশ, পুঁটি বা চাপিলার মতো তৈলাক্ত মাছও রাখতে পারেন। এতে মা ও শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বমিভাব কমাতে সাহায্য করুন

সকালে খালি পেটে থাকলে অনেকের বমিভাব বেড়ে যায়। রাতে ঘুমানোর আগে বিছানার পাশে হালকা শুকনো খাবার, যেমন ক্র্যাকার বা বিস্কুট রেখে দিতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে অল্প কিছু খেলে অনেকের বমিভাব কিছুটা কমে।

ঘরের কাজে সহযোগিতা করুন

এই সময় গর্ভবতী মা সহজেই ক্লান্ত হয়ে যেতে পারেন। তাই রান্না, বাজার, ঘর গোছানো বা অন্যান্য দৈনন্দিন কাজে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করুন। আপনার ছোট্ট সহযোগিতাও তাকে অনেক স্বস্তি দিতে পারে।

প্রস্রাবের সংক্রমণের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকুন

গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক হলেও কিছু লক্ষণ সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। যেমন—

  • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
  • দুর্গন্ধ
  • ঘোলাটে প্রস্রাব
  • জ্বর
  • শরীর কাঁপানো

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

মানসিকভাবে পাশে থাকুন

গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মুড সুইং হওয়া খুবই সাধারণ। কখনো আপনার সঙ্গী খুব খুশি থাকবেন, আবার সামান্য কারণেও মন খারাপ করতে পারেন। এ সময় তার কথা মন দিয়ে শুনুন, ধৈর্য ধরুন এবং তাকে মানসিকভাবে সাহস দিন।

হবু মায়েদের জন্য স্বাস্থ্য পরামর্শ

সাধারণ জিজ্ঞাসা

গর্ভাবস্থার ৮ম সপ্তাহে শিশুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ মিলিমিটার হয়। এ সময় তার আকার প্রায় একটি মিষ্টি কুমড়ার বিচির সমান।

 

এই সপ্তাহে শিশুর মস্তিষ্ক, চোখ, কান, নাক, ঠোঁট, হাত-পায়ের আঙুল এবং শরীরের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন ফুসফুস, লিভার ও পরিপাকতন্ত্র দ্রুত বিকশিত হতে থাকে।

হ্যাঁ। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে বমিভাব বা বমি হওয়া খুবই সাধারণ। এটি মূলত হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রথম ত্রৈমাসিকের শেষে ধীরে ধীরে কমে আসে।

পরিমিত পরিমাণে আদা অনেকের বমিভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে অতিরিক্ত আদা খাওয়ার আগে বা যদি আপনার অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়োডিন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান গর্ভের শিশুর মস্তিষ্ক, চোখ ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশে সাহায্য করে। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সাধারণভাবে সপ্তাহে অন্তত ২৮০ গ্রাম মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কিছু অংশ তৈলাক্ত মাছ যেমন ইলিশ, পুঁটি বা চাপিলা হতে পারে। তবে মাছ অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে।